বিভিন্ন রকম ওয়েব হোস্টিংয়ের আলোচনা

website-hosting

ওয়েব হোস্টিং মূলত একটি সার্ভার। কোন একটি ওয়েবসাইটের ইমেজ, ফাইল এবং অন্যান্য তথ্য গুলো যে সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে তাকে ওয়েব হোস্টিং বলে।

ওয়েব হোস্টিং গুলোতে একটি ওয়েবসাইটের সকল ফাইল, ইমেজ এবং অন্যান্য তথ্য গুলো ২৪/৭ দিন সংরক্ষিত থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত ওয়েব হোস্টিং এর মালিক সেই ফাইলগুলো সেখান থেকে ডিলিট করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ফাইলগুলো ওয়েব হোস্টিং এ সংরক্ষিত থাকবে।

এখন বিভিন্ন ধরনের হোস্টিং পাওয়া যায়। তবে নিচের চার ধরনের হোস্টিং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কাজেই এখন আমরা নিম্নোক্ত চার ধরনের হোস্টিং এর সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবো। জনপ্রিয় চার ধরনের ওয়েব হোস্টিং হচ্ছে—

  1. Shared Web Hosting
  2. VPS (Virtual Private Server)
  3. Dedicated Hosting
  4. Cloud Web Hosting

1. Shared Web Hosting

Shared Web Hosting

শেয়ার মান হচ্ছে ভাগাভাগি করা। অর্থাৎ যে হোস্টিং একাধিক লোক ভাগ করে ব্যবহার করে সেই হোস্টিংকে শেয়ারড হোস্টিং বলে। এই ধরনের একটি হোস্টিং সার্ভার একাধিক লোক ক্রয় করে থাকে। যার কারনে শেয়ার হোস্টিং অন্যান্য হোস্টিংয়ের তুলনায় কিছুটা কমদামের হয়।

বিষয়টি বুঝার জন্য আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন, আপনি যখন কলেজ ভাসিটিতে পড়তেন তখন বসবাসের জন্য ছোট ছোট রুম ভাড়া করতেন। পরবর্তীতে আপনি সেই বাসার জায়গা অনুসারে আপনার রুমে আরো কিছু লোকের সাথে রুম শেয়ার করতেন। যার ফলে বাসা ভাড়া সবাই মিলে সমান হারে দেওয়ার কারনে ভাড়া অনেক কম হতো।

ঠিক সেই ভাবে শেয়ার হোস্টিংয়ের একটি সার্ভারের স্টোরেজ একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। যার ফলে শেয়ার হোস্টিংয়ের দাম কমে যায়। কিন্তু ভাগ করার ফলে একই সার্ভারে যখন একাধিক লোক তাদের ওয়েবসাইট রাখবে তখন যেই ওয়েবসাইটে বেশি ট্রাফিক থাকবে সেই ওয়েবসাইটের প্রভাব আপনার ওয়েবসাইটের উপর পড়বে। যার ফলে আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড কমে যাবে। মোট কথা হচ্ছে একটা রুম ভাগাভাগি করে একাধিক লোক ব্যবহার করলে যা হয়।

Shared Hosting এর সুবিধা

  • এই ধরনের হোস্টিং ব্যবহার ও সেটআপ খুব সহজ।
  • এটি নতুন ওয়েবসাইটের জন্য ভালো।
  • এর দাম খুব কম, তাই সবাই কিনতে পারে।
  • এটির Control Panel সহজভাবে তৈরি করা হয়।

Shared Hosting এর অসুবিধা

  • এটাতে খুব লিমিটেড অ্যাক্সেস পাওয়া যায়।
  • অন্যদের সাথে সার্ভার ভাগ হওয়ার কারনে ওয়েবসাইট ডাউন হতে পারে।
  • এটির সিকিউরিটি ব্যবস্থা তেমন ভালো না।
  • অধিকাংশ কোম্পানি কোন ধরনের সাপোর্ট দেয় না।

2. VPS Hosting

vps-company

VPS হোস্টিং শেয়ারড হোস্টিংয়ের উন্নত ভার্সন। সাধারণত শেয়ার হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে একটি সার্ভারকে ভাগ করে বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করা হয় এবং ভাগ করা প্রত্যেকটি সার্ভার তাদের প্রয়োজনীয় ডেটা অন্য সার্ভার থেকে নিতে পারে। কিন্তু VPS সার্ভারের ক্ষেত্রে একটি সার্ভার একাধিক লোকের কাছে বিক্রি করা হলেও ভাগকৃত একটি সার্ভার অন্য সার্ভারের কোন শক্তি ব্যবহার করতে পারে না। অর্থাৎ ভাগ হওয়া প্রত্যেকটি সার্ভার তাদের নিজেস্ব পাওয়ার থেকে সকল তথ্য সংগ্রহ করে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ৫ জন লোক মিলে একটি বাসা ভাড়া নিলেন যেখানে ৫ টি রুম আছে। কিন্তু কেউ অন্যের রুম ব্যবহার করতে পারবে না বা ব্যবহার করার অনুমতি নাই। ৫ জন লোক প্রত্যেকে তাদের নিজের রুমে অবস্থান করে এবং সকল কাজে যার যার রুম ব্যবহার করবে। তারা প্রত্যেকে একই বাসাতে আছে কিন্তু অন্য রুমে যাওয়ার কোন ক্ষমতা নেই।

VPS হোস্টিংয়ে ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যার মধ্যে একটি শক্তিশালী সার্ভার এবং সুরক্ষিত সার্ভারটি কার্যত বিভিন্ন অংশে বিভক্ত থাকে। এখানে আপনাকে অন্য কোনো ওয়েবসাইটের সাথে হোস্টিং ভাগাভাগি করতে হবে না।

VPS হোস্টিং শেয়ার হোস্টিংয়ের চাইতে কিছুটা ব্যয়বহুল। তবে শেয়ার হোস্টিংয়ের চাইতে VPS হোস্টিংয়ের গুনগত মান অনেক ভালো। আপনি যদি কম খরছে ডেডিকেটেড সার্ভারের মতো পারফরম্যান্স চান তবে VPS হোস্টিং আপনার জন্য সেরা হবে।

VPS হোস্টিংয়ের সুবিধা

  • এই ধরনের হোস্টিং ভালো পারফরমেন্স প্রদান করে।
  • ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ের মত পুরো নিয়ন্ত্রন পাওয়া যায়।
  • ব্যান্ডউথ ও স্পিড ভালো থাকে।
  • ডেডিকেটেড সার্ভারের মত বেশি দাম না হওয়ার সবাই VPS হোস্টিং কিনতে পারে।
  • এর সিকিউরিটি ব্যবস্থা অনেক উন্নত।
  • সার্ভার ডাউন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললে চলে।
  • যে কোন সময় কাস্টমার সাপোর্ট পাওয়া যায়।

VPS হোস্টিংয়ের অসুবিধা

  • এটি ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রন করা কিছুটা কঠিন।
  • ডেডিকেটেড সার্ভারের চাইতে কম রিসোর্চ দেওয়া হয়।

3. Dedicated Hosting

dedicated-server-hosting

Dedicated হোস্টিংয়ে কারো কোন ভাগ থাকে না। এ ধরনের হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির জন্য একটি নির্ধারিত সার্ভার দেওয়া হয়। এই সার্ভার কোন অবস্থাতে অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে না। এটি হচ্ছে Share Hosting এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

যাদের ওয়েবসাইটে প্রচুর পরিমানে ট্রাফিক থাকে তারা সাধারণত এ ধরনের Dedicated Hosting ব্যবহার করে। কারণ যে ওয়েবসাইটে বেশি ট্রাফিক সেই ওয়েবসাইটের জন্য উন্নতমানের ওয়েব হোস্টিং প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বড় বড় ই-কমার্স সাইটগুলো এ ধরনেরে Dedicated Hosting ব্যবহার করে।

Dedicated Hosting এর সুবিধা

  • এই ধরনের সার্ভার কেউ ভাগ করতে পারে না।
  • সব ধরনের হোস্টিংয়ের তুলনায় এর সিকিউরিটি ব্যবস্থা উন্নত।
  • এর সার্ভার অনেক শক্তিশালি হয়।
  • সার্ভার ডাউন কখনো হবে না।
  • ওয়েবসাইটে যত বেশি ট্রাফিক থাকুক না কেন ওয়েবসাইট স্লো হবে না।

Dedicated Hosting এর অসুবিধা

  • এটি অনেক ব্যয়বহুল হোস্টিং।
  • নিয়ন্ত্রন করার জন্য প্রযুক্তিগত অনেক জ্ঞান থাকতে হবে।
  • এই ধরনের সার্ভার মেনটেইন করার জন্য টাকা খরছ করে এক্সপার্ট নিয়োগ করতে হয়।

4. Cloud Web Hosting

cloud-hosting

Cloud Web Hosting বর্তমান সময়ের অনেক জনপ্রিয় একটি হোস্টিং। ক্লাউড হোস্টিং হলো একাধিক কম্পিউটার সার্ভারের সম্বনয়ে গঠিত একটি হোস্টিং সার্ভার। অর্থাৎ এই হোস্টিং-এ অনেকগুলো সার্ভার এক সাথে কানেক্টেট থাকে।

আর এই হোস্টিংয়ে ওয়েবসাইটের যাবতীয় ফাইল বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সার্ভারে রাখা হয়। যার ফলে ক্লাউড হোস্টিংয়ে একটি সাইট ডাউন হওয়ার সম্ভবনা একেবারে নেই বললেই চলে। তাছাড়া এই হোস্টিং বেশি সিকিউর হয়ে থাকে। তাই দিন দিন ক্লাউড হোস্টিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এখন অধিকাংশ ব্লগাররা তাদের ওয়েবসাইটের জন্য ক্লাউড হোস্টিং বেছে নেয়। কারণ অন্যন্য হোস্টিং এর তুলনায় এটির দামও অনেক কম। নতুন, এক্সপার্ট সাবার জন্যই ক্লাউড হোস্টিং সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে। তাছাড়া এটি যে কারো জন্যই সেরা একটি হোস্টিং মাধ্যম হতে পারে।

Cloud Hosting এর সুবিধা

  • এখানে সার্ভার ডাউন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
  • ব্লগে বেশি ট্রাফিক হলেও ব্লগ স্লো হয় না।
  • উন্নতমানের সিকিউরিটি ব্যবস্থা থাকে।
  • বিভিন্ন দামের প্যাকেজ পাওয়া যায়।

Cloud Hosting এর অসুবিধা

  • এখানে রুট অ্যাক্সেসের সুবিধা দেওয়া হয়নি।
  • অন্যান্য নরমাল হোস্টিংয়ের চাইতে কিছুটা ব্যয়বহুল।

উপসংহার

তবুও, কিছু বিভ্রান্তি হচ্ছে? অথবা ওয়েবসাইট বিল্ডিং কোন ধরনের সাহায্য প্রয়োজন? তারপর, নীচে মন্তব্য করুন. আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পেরে খুশি হব। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে হোস্টিং সম্পর্কে একটি কমপ্লিট গাইড দেওয়ার সর্বাত্ম চেষ্টা করা হয়েছে। আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই ইতোপূর্বে হোস্টিং বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছন।

আপনি ওয়েব হোস্টিং পরিষেবা ক্রয় করার পূর্বে যা জেনে নেওয়া জরুরী এবং দ্রুত নতুন ফ্রিল্যান্সিং শেখার বিষয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর আমাদের নিবন্ধ পছন্দ করতে পারেন.

ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কিত এই লেখাটি আপনার পছন্দ হয়ে থাকলে আপনি পোস্টটি ফেসবুকে শেয়ার করতে পারেন। তাহলে সহজে আপনার বন্ধ বান্ধব এই পোস্টটি পড়ে ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কে জানতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *