ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করার জন্য কি কি প্রয়োজন জেনে নিন

find-out-whats-needed-to-get-started-with-freelancing

বর্তমানে যুব সমাজের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ফ্রিল্যান্সিং করতে চায়। কিন্তু তারা সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারণে ফ্রীলান্সিং জগতের ঢুকার কিছুদিন পরেই হারিয়ে যায়। ফ্রিল্যান্সিং জগৎ মানুষ যতটা সহজ মনে করে, তার থেকে অন্তত তিন থেকে চার গুণ কঠিন।

ফ্রিল্যান্সিং জগতে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই আপনার বেশ কিছু জিনিস জানা প্রয়োজন। তাহলে চলুন সেই বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি…

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা:

ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই আপনাকে কোন একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে। কারণ ফ্রীলান্সিং জগতে আপনার একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আপনার সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে।

অনেকে একটা ভুল করে থাকেন সেটা হলো ফ্রিল্যান্সিংকে ফুলটাইম নেওয়া। আপনি যদি পড়ালেখা অথবা চাকরি করে থাকেন, তাহলে কখনোই ফ্রিল্যান্সিংকে ফুলটাইম হিসেবে নিবেন না। এতে আপনার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে, কারণ ফ্রিল্যান্সিং জগতে কাজ পেতে অনেক সময় বছর লেগে যায়।

আর যদি আপনার কোন ধরনের কাজ না থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি ফ্রিলেন্সিংকে ফুলটাইম হিসেবে নিতে পারেন। অবশ্যই কোন একটি বিষয় নিয়ে ফ্রীলান্সিং শুরু করবেন। প্রথম অবস্থায় একের অধিক বিষয় নিয়ে কাজ না করাই উত্তম।

কৌশল:

ফ্রিল্যান্সিং জগতে কৌশলতাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিল্যান্সিংয়ে এমন অনেক কাজ রয়েছে, যেগুলো সর্টকাটে করা সম্ভব। আপনি যদি সেই কাজগুলো কৌশল ব্যবহার করে সর্টকাটে করেন, তাহলে তাড়াতাড়ি অনেক কাজ করতে পারবেন।

আর যদি কৌশলে সর্টকাটে না করেন, তাহলে আপনার ওই কাজ করতে অনেক সময় লেগে যাবে। এ ছাড়া কোন কিছু সম্পর্কে না জানলে সেটা কিভাবে গুগল বা ইউটিউবে সার্চ করে বের করতে হয়, সেটাও জানা খুবই জরুরী।

ইংরেজির দক্ষতা:

ফ্রীলান্সিং জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইংরেজির দক্ষতা। আপনি যে ফ্রীলান্সিং সেক্টরে কাজ করেন না কেন, আপনি যদি ইংরেজি না জানেন তাহলে আপনার বায়ারের সাথে কমিউনিকেশন ভালো হবে না।

এতে করে আপনার অর্ডার ক্যান্সেল হতে পারে, অথবা আপনার প্রোফাইলের মধ্যে ব্যাড রেটিং চলে আসবে। যেটা আপনার আইডির জন্য অনেক খারাপ হতে পারে। যদি আপনি ইংরেজি একটুও না জানেন, সেক্ষেত্রে আগে ইংরেজিটা শিখে নেন। তারপরে ফিলান্সিং জগতে প্রবেশ করুন। বর্তমানে কিন্তু গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্য নিয়েও অনেকে ফ্রীলান্সিং করছে।

জ্ঞান ও দক্ষতা:

ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোন বিষয়ের উপর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা। আপনি যদি কোন বিষয়ে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন না করেন, তাহলে আপনি ফ্রীলান্সিং জগতের কোন কাজ পাবেন না।

আর যদি কাজও পান, তাহলেও আপনি সঠিকভাবে সেই কাজ করতে পারবেন না। এতে করে আপনার একাউন্টে বেড রেটিং চলে আসবে।

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ:

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অবশ্যই আপনার ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থাকতে হবে। অনলাইনের মধ্যে আপনাকে অনেকেই বলবে মোবাইল দিয়েও ফ্রিল্যান্সিং করা যায়। আসলে আপনি মোবাইল দিয়ে প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না।

প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে অবশ্যই একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থাকতে হবে।

ইন্টারনেট কানেকশন:

আপনি যদি প্রফেশনাল ভাবে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনার বাসায় ওয়াইফাই কানেকশন নিয়ে নিন। কারণ আপনি মডেম এর সাহায্যে ইন্টারনেট কিনে ফ্রীলান্সিং করলে আপনার অনেক টাকা খরচ হবে।

ফ্রীলান্সিং এ প্রথমাবস্থায় কেউই এত টাকা খরচ করতে চাইবে না।

ধৈর্য:

ফ্রী-ল্যান্সিং এ আপনার কাজ পেতে অনেক সময় কয়েক বছরও লেগে যায়। তাই অবশ্যই আপনাকে ধৈর্যের সাথে এই সেক্টরে পড়ে থাকতে হবে।

আপনি যদি ধৈর্য হারিয়ে এই সেক্টর থেকে চলে যান, তাহলে আপনি কখনো ফ্রীলান্সার হতে পারবেন না।

পরিশেষে, অযথা কোনো কাজ না শিখে এবং ইংরেজি না জেনে, ফিলান্সিং জগতে কখনো প্রবেশ করবেন না। এতে করে আপনি কোন কাজ পাবেন না, শুধু সময় এবং টাকা নষ্ট হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *